Thursday, October 22, 2015

মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাওলানার অবদান

দ্বিতীয়বার মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণ শেষ করার অল্পদিন পরে আবার ১৯৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে মাওলানাকে সঊদী আরব যেতে হয়। এবার তিনি গিয়েছিলেন শাহ সউদের আমন্ত্রণে। শাহ সউদ বহুদিন থেকে এ অভিলাষ পোষণ করতেন যে, তিনি মদীনা শরীফে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবেন। এ প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক খসড়া প্রণয়নের জন্যে তিনি কতিপয় বিশেষজ্ঞের একটা বৈঠক আহ্বান করেন। এ বৈঠকে মাওলানা মওদূদী ‘শাহী মেহমান’ হিসাবে যোগদান করেন।
মাওলানা মওদূদী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আগে থেকেই তৈরি করে নিয়ে গিয়েছিলেন। বৈঠকে যোগদানকারী প্রত্যক সভ্যের নিকটে একটি করে উক্ত খসড়ার সকল পেশ করেন। বিস্তারিত আলোচনা শেষে যৎসামান্য রদবদলের পর মাওলানার পরিকল্পনা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং একে ভিত্তি করেই স্থাপিত হয় মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। মদীনা গমন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান ও দালান-কোঠা দেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবার জন্যে শাহ সউদ মাওলানাকে অনুরোধ করেন। অতঃপর মাওলানা মদীনা শরীফে গমন করেন।
শাহ সউদ কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মাওলানাকে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্ণিং বডির স্থায়ী সদস্য নিযুক্ত করেন। পাকিস্তানী ছাত্রদের জন্যে নানান সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতিও শাহ সউদ দিয়েছিলেন। এর মধ্যেই পাকিস্তানের বেশ কিছু সংখ্যক ছাত্র এ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন।
এবারের ভ্রমণে বহু লোকের সাথে মাওলানার পরিচয় ঘটে। রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্রবৃন্দ মাওলানার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাওলানা বক্তৃতা করেন।
এবার এখানে আফ্রিকার ইসলামী তাবলীগের কর্মসূচী তৈরী করা হয়। নাইরোবীর আঞ্জুমানে হিমায়াতে ইসলামের পক্ষে থেকে মাওলানাকে দাওয়াত করে ব্যপক কর্মসূচী তৈরি হয়। কেনিয়ার মুসলমানগণও অতি আগ্রহে মাওলানার আগমন প্রতীক্ষা করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাওলানার আফ্রিকা ভ্রমণ নানা কারণে সম্ভব হয়নি।

No comments:

Post a Comment